ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ , ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​উড়ছে ‘ডুমসডে প্লেন’, বাড়ছে পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০১:৫৬:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০১:৫৬:১৪ অপরাহ্ন
​উড়ছে ‘ডুমসডে প্লেন’, বাড়ছে পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কা ​ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক বিমান ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত বোইং ই-৬বি মার্কারি এর উড্ডয়ন বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কমান্ড বিমান ই-৬বি মার্কুরি একাধিকবার আকাশে উড়েছে। ওই সময়ই ইরান ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।

পরিবর্তিত বোইং ৭০৭ বিমানের কাঠামোর ওপর নির্মিত এই বিশেষ বিমান এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতেও এটি কার্যকর থাকতে পারে। আকাশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করার ক্ষমতা রয়েছে এতে। কার্যত এটি একটি উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে।

এই বিমান থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং স্যাটেলাইট ব্যবস্থায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দুটি ই-৬বি মার্কুরি উড্ডয়ন শনাক্ত করা হয়। এর একটি গালফ উপকূল থেকে উড্ডয়ন করে নাভাল এয়ার স্টেশন পাটুক্সেন্ট রিভার ঘাঁটিতে অবতরণ করে। অন্যটি নেবরাস্কা থেকে উড্ডয়ন করে আবার সেখানেই ফিরে যায়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ফ্লাইট আটলান্টিক পেরিয়ে পার্সিয়ান গালফ অঞ্চলের দিকে যেতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব উড্ডয়ন নিয়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাস্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ই-৬বি মার্কুরি বিমানগুলো মূলত ‘টেক চার্জ অ্যান্ড মুভ আউট’ বা টাকামো নামে পরিচিত বিশেষ মিশন পরিচালনা করে। এই মিশনের লক্ষ্য হলোÑ যদি স্থলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়, তবুও যেন পারমাণবিক হামলার নির্দেশ নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। সংকটকালীন পরিস্থিতিতে এই বিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বিমান প্রায়ই প্রশিক্ষণ মহড়া বা প্রস্তুতি যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবুও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসব বিমানের সক্রিয়তা পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ